রসায়ন শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা রঙের তরল, উৎপন্ন হওয়া বুদবুদ, আর রাসায়নিক বিক্রিয়ার দৃশ্য। রসায়ন আসলে পদার্থের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করে। আমাদের চারপাশের সব কিছুই পদার্থ, আর সেই পদার্থের রহস্য উন্মোচন করে রসায়ন। এসএসসি পরীক্ষায় রসায়ন এমন একটি বিষয়, যা একটু যুক্তি দিয়ে পড়লে এবং নিয়মিত অনুশীলন করলে খুব সহজেই ভালো নম্বর তোলা যায়। এই পোস্টে SSC Chemistry Guide PDF | ৯ম-১০ম শ্রেণির রসায়ন গাইড PDF দিয়ে দিলাম।
SSC Chemistry Guide PDF
| অধ্যায়ের নাম ও পিডিএফ |
|---|
| ১ প্রথম অধ্যায়: রসায়নের ধারণা |
| ২ দ্বিতীয় অধ্যায়: পদার্থের অবস্থা |
| ৩ তৃতীয় অধ্যায়: পদার্থের গঠন |
| ৪ চতুর্থ অধ্যায়: পর্যায় সারণি |
| ৫ পঞ্চম অধ্যায়: রাসায়নিক বন্ধন |
| ৬ ষষ্ঠ অধ্যায়: মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা |
| ৭ সপ্তম অধ্যায়: রাসায়নিক বিক্রিয়া |
| ৮ অষ্টম অধ্যায়: রসায়ন ও শক্তি |
| ৯ নবম অধ্যায়: এসিড-ক্ষারক সমতা |
| ১০ দশম অধ্যায়: খনিজ সম্পদ: ধাতু-অধাতু |
| ১১ একাদশ অধ্যায়: খনিজ সম্পদ: জীবাশ্ম |
| ১২ দ্বাদশ অধ্যায়: আমাদের জীবনে রসায়ন |
| মডেল টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন |
| ব্যাবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা |
আরও পড়ুনঃ SSC Biology Guide PDF | নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান গাইড
প্রথম অধ্যায়: রসায়নের ধারণা
রসায়নের যাত্রা শুরু হয় এর মৌলিক ধারণা দিয়ে। এই অধ্যায়টা অনেকটা ভূমিকার মতো, যেখানে রসায়ন কী, রাসায়নিক পদার্থ কী, রসায়নের শাখা প্রশাখা, পদার্থের বৈশিষ্ট্য, পদার্থের শ্রেণিবিভাগ যেমন মৌলিক পদার্থ, যৌগিক পদার্থ ও মিশ্রণ, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে রসায়নের ইতিহাস ও বিজ্ঞানীদের অবদানও রয়েছে।
আমি যখন প্রথম এই অধ্যায় পড়ি, তখন মনে হতো এগুলো তো খুবই সহজ বিষয়। কিন্তু পরে বুঝি, এই অধ্যায়ের ধারণাগুলো পরবর্তী সব অধ্যায়ের ভিত্তি। বিশেষ করে পদার্থের শ্রেণিবিভাগ, মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থের পার্থক্য, মিশ্রণের প্রকারভেদ যেমন সমজাতীয় ও বিষমজাতীয় মিশ্রণ, এইসব ভালো করে জানতে হবে। পিডিএফে প্রতিটি ধারণার সংজ্ঞা, উদাহরণ ও পার্থক্য সারণি আকারে দেওয়া আছে, যা মনে রাখতে খুব সহায়ক।
এই অধ্যায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাসায়নিক ও ভৌত পরিবর্তনের পার্থক্য। ভৌত পরিবর্তনে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে কিন্তু রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত হয় না, আর রাসায়নিক পরিবর্তনে নতুন পদার্থ তৈরি হয়। পিডিএফে প্রতিটি পরিবর্তনের উদাহরণ ও প্রক্রিয়া বিস্তারিত বোঝানো আছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: পদার্থের অবস্থা
পদার্থের অবস্থা অধ্যায়ে পদার্থের তিনটি অবস্থা, কঠিন, তরল ও বায়বীয়, এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাথে রয়েছে অবস্থার পরিবর্তন, গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক, ঘনীভবন, ঊর্ধ্বপাতন, এইসব প্রক্রিয়ার ধারণা। পদার্থের অবস্থা নির্ভর করে তাপমাত্রা ও চাপের ওপর, আর এই সম্পর্কটি বুঝতে হলে গ্যাসের চাপ ও তাপমাত্রার মধ্যে সম্পর্ক জানতে হয়।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গ্যাসের চাপ ও আয়তনের সম্পর্ক, যা বয়েলের সূত্র নামে পরিচিত। স্থির তাপমাত্রায় গ্যাসের চাপ ও আয়তন পরস্পর ব্যস্তানুপাতিক। আর চার্লসের সূত্র অনুযায়ী স্থির চাপে গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। পিডিএফে এই সূত্রগুলোর গাণিতিক রূপ, উদাহরণ ও প্রয়োগ বিস্তারিত আছে।
অবস্থার পরিবর্তনের সময় শোষিত বা বর্জিত তাপের পরিমাণ নিয়েও আলোচনা আছে। গলনের সুপ্ততাপ, বাষ্পীভবনের সুপ্ততাপ, এইসবের সংজ্ঞা ও সূত্র মনে রাখতে হবে। পিডিএফে প্রতিটি প্রক্রিয়ার চিত্র ও তাপমাত্রা-সময় গ্রাফ দেওয়া আছে, যা অবস্থার পরিবর্তন বুঝতে খুব সহায়ক।
তৃতীয় অধ্যায়: পদার্থের গঠন
পদার্থের গঠন অধ্যায়টি রসায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে পরমাণুর গঠন, ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের আবিষ্কার, পরমাণুর বিভিন্ন মডেল যেমন ডালটনের মডেল, থমসনের মডেল, রাদারফোর্ডের মডেল, বোরের মডেল, এইসব নিয়ে আলোচনা করা হয়। সাথে রয়েছে ইলেকট্রন বিন্যাস, শক্তিস্তর, অরবিটাল, কোয়ান্টাম সংখ্যা, এইসব বিষয়।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইলেকট্রন বিন্যাস। কোনো পরমাণুতে ইলেকট্রন কিভাবে বিভিন্ন শক্তিস্তরে সাজানো থাকে, তার নিয়ম ২n² সূত্রে বোঝানো হয়। পিডিএফে বিভিন্ন মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের উদাহরণ ও চিত্র দেওয়া আছে। বোরের মডেল অনুযায়ী ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে, আর এই কক্ষপথের শক্তি স্তরভেদে ভিন্ন।
পরমাণুর বিভিন্ন মডেলের তুলনা, তাদের সীমাবদ্ধতা ও অবদান, এইসবও পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পিডিএফে প্রতিটি মডেলের চিত্র ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত বোঝানো আছে। আর আইসোটোপ ও আইসোবারের ধারণাও এই অধ্যায়ের অংশ, যেখানে একই মৌলের ভিন্ন ভরবিশিষ্ট পরমাণু নিয়ে আলোচনা করা হয়।
চতুর্থ অধ্যায়: পর্যায় সারণি
পর্যায় সারণি অধ্যায়ে মৌলগুলোর শ্রেণিবিন্যাস, পর্যায় সারণির ইতিহাস, মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণি ও আধুনিক পর্যায় সারণি, পর্যায় ও গ্রুপের ধারণা, মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম যেমন পারমাণবিক আকার, আয়নীকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পর্যায় সারণির গ্রুপ ও পর্যায় অনুযায়ী মৌলের বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন। যেমন কোনো গ্রুপে উপর থেকে নিচে নামলে পারমাণবিক আকার বাড়ে, আয়নীকরণ শক্তি কমে। আবার কোনো পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে পারমাণবিক আকার কমে, আয়নীকরণ শক্তি বাড়ে। পিডিএফে প্রতিটি পর্যায়বৃত্ত ধর্মের সংজ্ঞা, পরিবর্তনের প্রবণতা ও কারণ বিস্তারিত বোঝানো আছে।
মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণি ও আধুনিক পর্যায় সারণির পার্থক্য, সারণিতে মৌলগুলোর অবস্থান নির্ণয়ের নিয়ম, এইসবও পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পিডিএফে পর্যায় সারণির একটি বড় চিত্র দেওয়া আছে, যাতে প্রতিটি গ্রুপ ও পর্যায় চিহ্নিত আছে। এই চিত্রটি নিজে নিজে আঁকার অভ্যাস করো।
পঞ্চম অধ্যায়: রাসায়নিক বন্ধন
রাসায়নিক বন্ধন অধ্যায়ে পরমাণুগুলোর মধ্যে কীভাবে বন্ধন তৈরি হয়, আয়নিক বন্ধন, সমযোজী বন্ধন, ধাতব বন্ধন, এইসব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বন্ধন তৈরির কারণ হলো পরমাণুগুলো ইলেকট্রন বিন্যাস স্থিতিশীল করতে চায়, আর সেই স্থিতিশীলতার জন্য তারা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে।
আয়নিক বন্ধন ঘটে যখন একটি পরমাণু অপর একটি পরমাণুকে ইলেকট্রন দান করে, ফলে দুটি বিপরীত আধানযুক্ত আয়ন তৈরি হয় এবং তাদের মধ্যে স্থির তড়িৎ আকর্ষণ বলে বন্ধন তৈরি হয়। যেমন সোডিয়াম ক্লোরাইডে সোডিয়াম ক্লোরিনকে ইলেকট্রন দান করে। পিডিএফে আয়নিক বন্ধনের উদাহরণ, শর্ত ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আছে।
সমযোজী বন্ধন ঘটে যখন দুটি পরমাণু পরস্পরের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে নেয়। যেমন অক্সিজেন অণুতে দুটি অক্সিজেন পরমাণু দুটি ইলেকট্রন জোড় ভাগাভাগি করে। পিডিএফে সমযোজী বন্ধনের প্রকারভেদ যেমন একক, দ্বিবন্ধন ও ত্রিবন্ধন, তাদের উদাহরণ ও বৈশিষ্ট্য দেওয়া আছে। ধাতব বন্ধনও এই অধ্যায়ের অংশ, যা ধাতুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: মোলের ধারণা ও রাসায়নিক গণনা
এই অধ্যায়টি রসায়নের সবচেয়ে গাণিতিক অংশ। এখানে মোলের ধারণা, অ্যাভোগাড্রোর সংখ্যা, মোলার ভর, গ্যাসের মোলার আয়তন, রাসায়নিক গণনা, শতকরা গঠন, অনুসূত্র ও সংকেত সূত্র নির্ণয়, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। মোল হলো পদার্থের পরিমাণের একটি একক, যা ৬.০২২ × ১০²³ সংখ্যক কণাকে বোঝায়।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো হলো, মোলের সংখ্যা = পদার্থের ভর / মোলার ভর, এবং গ্যাসের মোলের সংখ্যা = গ্যাসের আয়তন / ২২.৪ লিটার (STP তে)। পিডিএফে প্রতিটি সূত্রের প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত উদাহরণ দেওয়া আছে। রাসায়নিক সমীকরণ থেকে বিক্রিয়কের পরিমাণ ও উৎপাদের পরিমাণ বের করা, এইসব গাণিতিক সমস্যা সমাধানের কৌশলও আছে।
শতকরা গঠন থেকে সংকেত সূত্র ও অনুসূত্র নির্ণয়ের পদ্ধতিও এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পিডিএফে ধাপে ধাপে এই গণনার উদাহরণ দেওয়া আছে, যা অনুসরণ করলে নিজেও করতে পারবে। রাসায়নিক গণনার জন্য অনুশীলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই পিডিএফে প্রচুর অনুশীলনী সমস্যা আছে।
সপ্তম অধ্যায়: রাসায়নিক বিক্রিয়া
রাসায়নিক বিক্রিয়া অধ্যায়ে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া, বিক্রিয়ার শর্ত, বিক্রিয়ার হার, অনুঘটক, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে নতুন পদার্থ তৈরি হয় এবং শক্তির পরিবর্তন ঘটে।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়া যেমন সংযোজন বিক্রিয়া, বিশ্লেষণ বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া, দ্বৈত প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া, জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। পিডিএফে প্রতিটি বিক্রিয়ার সংজ্ঞা, উদাহরণ ও রাসায়নিক সমীকরণ দেওয়া আছে। জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে, আর এই ধারণাটি বুঝতে হলে জারণ বিজারণের সংজ্ঞা পরিষ্কার হতে হবে।
বিক্রিয়ার হার ও অনুঘটকের ধারণাও এই অধ্যায়ের অংশ। অনুঘটক হলো সেই পদার্থ যা বিক্রিয়ার হার বাড়ায় কিন্তু নিজে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। পিডিএফে বিক্রিয়ার হারকে প্রভাবিত করে এমন উপাদান যেমন তাপমাত্রা, ঘনমাত্রা, চাপ, এইসবের প্রভাব নিয়ে আলোচনা আছে।
অষ্টম অধ্যায়: রসায়ন ও শক্তি
রসায়ন ও শক্তি অধ্যায়ে তাপগতিবিদ্যার মৌলিক ধারণা, তাপ ও কাজ, অভ্যন্তরীণ শক্তি, এনথালপি, তাপীয় বিক্রিয়া যেমন তাপোৎপাদী ও তাপহারী বিক্রিয়া, বন্ধন শক্তি, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাসায়নিক বিক্রিয়ার সাথে শক্তির সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি বিক্রিয়ায় শক্তির পরিবর্তন ঘটে।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো এনথালপি। এনথালপি হলো একটি সিস্টেমের মোট তাপীয় শক্তি। তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় এনথালপির পরিবর্তন ঋণাত্মক হয়, অর্থাৎ তাপ নির্গত হয়। আর তাপহারী বিক্রিয়ায় এনথালপির পরিবর্তন ধনাত্মক হয়, অর্থাৎ তাপ শোষিত হয়। পিডিএফে প্রতিটি বিক্রিয়ার উদাহরণ ও এনথালপি পরিবর্তনের মান দেওয়া আছে।
বন্ধন শক্তি ও বিক্রিয়ার তাপের সম্পর্কও এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্ধন গঠনে শক্তি নির্গত হয়, আর বন্ধন ভাঙতে শক্তি ব্যয় হয়। পিডিএফে বন্ধন শক্তির সারণি ও তার ব্যবহার নিয়ে আলোচনা আছে। হেসের সূত্রও এই অধ্যায়ে আছে, যা এনথালপি পরিবর্তন গণনার একটি পদ্ধতি।
নবম অধ্যায়: এসিড-ক্ষারক সমতা
এসিড-ক্ষারক সমতা অধ্যায়ে এসিড, ক্ষারক ও লবণের ধারণা, এসিড-ক্ষারকের বৈশিষ্ট্য, পিএইচ স্কেল, সূচক বা ইন্ডিকেটর, প্রশমণ বিক্রিয়া, বাফার দ্রবণ, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এসিড হলো সেই পদার্থ যা পানিতে আয়নিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) দান করে, আর ক্ষারক হলো সেই পদার্থ যা হাইড্রোক্সাইড আয়ন (OH-) দান করে।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পিএইচ স্কেল। পিএইচ স্কেল ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত, যেখানে ৭ হলো প্রশম, ৭ এর কম এসিডীয় এবং ৭ এর বেশি ক্ষারীয়। পিডিএফে পিএইচের সংজ্ঞা, গণনা পদ্ধতি ও বিভিন্ন দ্রবণের পিএইচ মানের উদাহরণ দেওয়া আছে। সূচক বা ইন্ডিকেটরের ধারণাও এই অধ্যায়ের অংশ, যা এসিড বা ক্ষারক শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
প্রশমণ বিক্রিয়া হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি হওয়া। এই বিক্রিয়ার সমীকরণ ও প্রয়োগ পিডিএফে বিস্তারিত আছে। বাফার দ্রবণ হলো সেই দ্রবণ যা অল্প পরিমাণ এসিড বা ক্ষারক যোগ করলেও পিএইচের পরিবর্তন ঘটে না, যা জীবদেহে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
দশম অধ্যায়: খনিজ সম্পদ: ধাতু-অধাতু
এই অধ্যায়ে ধাতু ও অধাতুর বৈশিষ্ট্য, ধাতুর নিষ্কাশন প্রক্রিয়া, ধাতুর সংকর ধাতু, ধাতুর জারণ ও ক্ষয়, অধাতুর বিভিন্ন রূপ ও ব্যবহার, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ধাতু হলো সেই মৌল যা তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী, চকচকে, নমনীয় ও প্রসার্য, আর অধাতু হলো সেই মৌল যা পরিবাহী নয়, ভঙ্গুর ও নিস্তেজ।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ধাতুর নিষ্কাশন প্রক্রিয়া। আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনের বিভিন্ন ধাপ যেমন খনিজ উত্তোলন, আকরিক ঘনীকরণ, পরিশোধন, এইসব পদ্ধতি জানতে হবে। পিডিএফে লোহা, অ্যালুমিনিয়াম, তামার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর নিষ্কাশন প্রক্রিয়া বিস্তারিত বোঝানো আছে।
ধাতুর ক্ষয় বা জারণের প্রক্রিয়া ও তার প্রতিরোধের উপায়, যেমন জিংক প্রলেপ, টিন প্রলেপ, পেইন্টিং, এইসবও গুরুত্বপূর্ণ। অধাতুর মধ্যে সালফার, ফসফরাস, কার্বনের বিভিন্ন রূপ যেমন হীরা, গ্রাফাইট, এইসবের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার পিডিএফে আছে। সংকর ধাতুর উদাহরণ যেমন স্টিল, ব্রোঞ্জ, পিতল, এইসবের গঠন ও ব্যবহারও এই অধ্যায়ের অংশ।
একাদশ অধ্যায়: খনিজ সম্পদ: জীবাশ্ম
জীবাশ্ম অধ্যায়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ধারণা, কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য, নিষ্কাশন ও ব্যবহার, জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা ও বিকল্প শক্তির উৎস, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি হলো প্রাচীন জীবদেহের পচনের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি, যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে তৈরি হয়েছে।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের বিভিন্ন উপাদান ও তাদের ব্যবহার। কয়লার প্রকারভেদ যেমন পিট, লিগনাইট, বিটুমিনাস, অ্যানথ্রাসাইট, তাদের কার্বনের পরিমাণ ও ব্যবহার পিডিএফে আছে। পেট্রোলিয়াম থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ভগ্নাংশ যেমন পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, অ্যাসফল্ট, এইসবের স্ফুটনাঙ্ক ও ব্যবহারও আছে।
জীবাশ্ম জ্বালানির সীমাবদ্ধতা যেমন এগুলো অপ্রতিকরণীয় সম্পদ, দহনে পরিবেশ দূষণ ঘটে, এইসব নিয়েও আলোচনা আছে। বিকল্প শক্তির উৎস যেমন সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ, জৈব জ্বালানি, এইসবের সম্ভাবনা নিয়েও পিডিএফে আলোচনা আছে।
দ্বাদশ অধ্যায়: আমাদের জীবনে রসায়ন
শেষ অধ্যায়টি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে রসায়নের প্রয়োগ নিয়ে। এখানে খাদ্য সংরক্ষণ, ওষুধ, প্রসাধনী, কৃষি রাসায়নিক যেমন সার ও কীটনাশক, পরিষ্কারক দ্রব্য যেমন সাবান ও ডিটারজেন্ট, পলিমার ও প্লাস্টিক, এইসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। রসায়ন আমাদের জীবনকে সহজ ও উন্নত করেছে, আবার কিছু রাসায়নিক ক্ষতিরও কারণ।
এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ও তাদের কাজ। যেমন সাবান ও ডিটারজেন্টের কাজের পদ্ধতি, কীভাবে তারা ময়লা পরিষ্কার করে, পিডিএফে তার রাসায়নিক ব্যাখ্যা আছে। সার ও কীটনাশকের প্রকারভেদ, তাদের কাজ ও পরিবেশের ওপর প্রভাবও আলোচিত হয়েছে।
ওষুধ ও প্রসাধনীতে রাসায়নিকের ব্যবহার, খাদ্য সংরক্ষণে রাসায়নিক যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রিজারভেটিভ, এইসবের ভূমিকা পিডিএফে আছে। পলিমার ও প্লাস্টিকের শ্রেণিবিভাগ, তাদের ব্যবহার ও প্লাস্টিক দূষণের সমস্যা এবং সমাধানের উপায়ও আলোচিত হয়েছে। এই অধ্যায়টি পরিবেশ সচেতনতা ও রসায়নের দায়িত্বশীল ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা দেয়।
শেষকথা
রসায়ন শুধু পরীক্ষার বিষয় নয়, এটি আমাদের চারপাশের সব কিছুর গঠন ও পরিবর্তনকে বোঝার বিজ্ঞান। খাদ্য থেকে ওষুধ, পোশাক থেকে জ্বালানি, সবকিছুর সাথে রসায়নের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এগুলো পড়ার সময় ব্যবহারিক প্রয়োগের সাথে মিলিয়ে দেখো, তাহলে বিষয়টি আরও আকর্ষণীয় লাগবে।
গাইড পিডিএফ তোমার এই যাত্রার সঙ্গী হতে পারে। উপরের টেবিল থেকে প্রতিটি অধ্যায়ের পিডিএফ ডাউনলোড করে নিয়ে আজ থেকেই পড়াশোনা শুরু করে দাও। নিয়মিত অনুশীলন, সূত্রের সঠিক প্রয়োগ এবং সমীকরণ ভারসাম্য করার অভ্যাস থাকলে রসায়নে ভালো করা খুব কঠিন নয়।
Related Posts
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গাইড নবম দশম শ্রেণি PDF Download | BGS Guide Class 9-10 (SSC 2027 and 2028)
- ইসলাম শিক্ষা গাইড নবম দশম শ্রেণি | Class 9-10 islam guide pdf (SSC 2027 and 2028)
- SSC Biology Guide PDF | নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান গাইড pdf (SSC 2027 and 2028)
- SSC Physics Guide PDF | পদার্থ বিজ্ঞান গাইড নবম দশম শ্রেণি (SSC 2027 and 2028)